Sunday, May 20, 2012

'হারিয়ে যাওয়া গীতবিতান' থেকে পাওয়া...

...যদ্দূর মনে পড়ছে আলো-আঁধারি এক ঘর। বড় আলো, মেজো আলো, ছোট আলো –সমস্তই নেভানো। পূব-দক্ষিণে একফালি বারান্দা আর জানালা হয়ে, নিয়ন আলো নয়, দ্বাদশীর চাঁদ নেপথ্য স্নিগ্ধতার কাজ করে চলেছে। আর, ও’ঘরের সাদা আলোর খানিকটা ছটা আসছে আবছা আলো-আঁধারে মোহময় এই ঘরে

...যদ্দূর মনে পড়ছে, চলে যাবার আগে স্নান সেরে এসে বুকের উপর থেকে গামছা সরিয়ে নিতেই সব্‌জে আলো ছড়িয়ে পড়ল শ্যামল বৃন্ত থেকে মেঝেতে, গেলাসে, আমার চোখের পাতায়নিঃশ্বাস নিতেই টের পেলাম, আতপ্ত মাটির বুকে বৃষ্টি এসেছে অঝোরে..

...সবুজ সে, হাঁটছে, চলছে, ফিরছে। ফোঁটা ফোঁটা জল পান্না হয়ে ঝরছে মেঝেতে, শরীরে আর মনে। আশ্লেষ। চোখ বুজলাম, চোখ খুললাম। মনপুরা গেল থেমে। বহুকালের চেনা সন্ধ্যাবেলার মিষ্টি মত সেই গন্ধ ম্লান হয়ে আসলো ধীরে ধীরে..

দাবী ছিল পুরো গান শোনাতে হবে। থেমে গেলে চলবে না মাঝপথে। সেদিনের অভ্যাস বশত ডান হাত বাড়িয়ে গীতবিতান টেনে নিতে নিতে চোখ তুলে দেখলাম, সবুজ সে নেই। হাতে ঠেকল নবধারা জলের জীবাশ্ম। শক্ত, ঠান্ডা, ধাতব। শীতলতা শীতলতা শীতলতা!

সবুজ সে কখন্‌ চলে গেছে অজান্তেই..


কিচ্ছু, কিচ্ছুটি টের পাই নি..


তারই সঙ্গে উধাও হলুদ লেগে থাকা চেনা গীতবিতানখানিও..

 .....................................................................................................................


কেন আবার এই লেখা তুলে দিলাম এই ব্লগে, তা হয়ত একটা কৈফিয়ত বা ওই গোছের কিছু দাবী করে। ধৈর্য ধরে পড়ে ফেললে পাঠিকা/পাঠক অবশ্যই বুঝবে যে সামান্য বদল রয়েছে, একটু এদিক-ওদিক করা রয়েছে। তবে, মোটের উপর একই লেখা, ওই আগের পোষ্টেরই পুনরাবৃত্তি প্রায়। তবু তুলে দিলাম। হয়ত কারো ইচ্ছেতে, অথবা সেই কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েই। এটুকু জানানো কর্তব্য : এই অদল-বদল আমি-কৃত নয়।

No comments:

Post a Comment

'আমিষ': ভালবাসার বিনির্মাণ

"আমিষ" ভালবাসার বিনির্মাণ   শুভ্রদীপ দাশগুপ্ত       আমিষ (২০১৯, অসমিয়া) রচনা ও নির্দেশনাঃ ভাস্কর হাজারিকা     অবশেষে ছবিটি দেখ...