একুশ এসেছিল। প্রতিবারই আসে, এবারেও এসেছিল। একুশে ফেব্রুয়ারি। সালাম, বরকত... এসেছিল। প্রতিবারেরই মত। প্রতিবারের মতই ঘুম ভেঙ্গে সদ্য জেগে উঠতে থাকা রোদের সমারোহ দেখেছি, মনে মনে বলেছি, আজ একুশে। পবিত্রতা। পবিত্রতাই কি? প্রতিবারের ! শুধু মাঝে কিছু কিছু মন কেমন করা, মাঝে মাঝে কিছু মন খারাপেরা এসেছিল। তুইও ছিলিস। বিকেল এসেছে। যাদবপুর, আড্ডা, গান, সাত্যকিদা, দোতারা, ঘুঙুর, গীটার, ভায়োলিন, একতারা, আর সাত্যকিদার সাথে গেয়ে উঠেছিল ঈষৎ মুখচোরা, লাজুক মত সেই ছেলেটা। না, আমি হয়ত আর একুশে পালন করতে গানের আয়োজন করব না...
এই একুশের সকালে এক কবিতা আমায় পেয়ে বসেছিল... আসলে এবার একুশের সক্কালবেলাটা আমার কেটেছে রুদ্র, আল মাহমুদ আর নির্মলেন্দু গুণে... সেখানেও তুই ছিলিস, জানিস তুই সেটা। এক কবিতা পেয়ে বসেছিল তখন আমায়। এক কবিতা পেয়ে বসেছে তখন থেকে আমায়। এতদিন পারি নি... আজ তাকে এখানে তুলে দিতে চাই।
এ আমার শৈশবের নদী, এই জলের প্রহার
সারাদিন তীর ভাঙে, পাক খায়, ঘোলা স্রোত টানে
যৌবনের প্রতীকের মতো অসংখ্য নৌকার পালে
গতির প্রবাহ হানে। মাটির কলসে জল ভরে
ঘরে ফিরে সলিমের বউ তার ভিজে দু’টি পায়।
অদূরের বিল থেকে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক
পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যাউ দূরে;
জনপদে কি অধীর কোলাহল মায়াবী এ নদী
এনেছে স্রোতের মতো, আমি তার খুঁজিনি কিছুই।
কিছুই খুঁজিনি আমি, যতবার এসেছি এ তীরে
নীরব তৃপ্তির জন্য আনমনে বসে থেকে ঘাসে
নির্মল বাতাস টেনে বহুক্ষণ ভরেছি এ বুক।
একটি কাশের ফুল তারপর আঙুলে আমার
ছিঁড়ে নিয়ে এই পথে হেঁটে চলে গেছি। শহরের
শেষ প্রান্তে যেখানে আমার ঘর, নরম বিছানা,
সেখানে রেখেছি দেহ। অবসাদে ঘুম নেমে এলে
আবার দেখেছি সেই ঝিকিমিকি শবরী তিতাস
কি গভীর জলধারা ছড়ালো হৃদয়ে আমার।
সোনার বৈঠার ঘায়ে পবনের নাও যেন আমি
বেয়ে নিয়ে চলি একা অলৌকিক যৌবনের দেশে।
– তিতাস , আল মাহমুদ।
আরো কিছু বলার ছিল হয়ত বা... এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি... মনে হচ্ছে সে এখন ঘুমিয়ে থাকুক নীরবতায়...