Sunday, July 11, 2021

'আমিষ': ভালবাসার বিনির্মাণ

"আমিষ"
ভালবাসার বিনির্মাণ

 

শুভ্রদীপ দাশগুপ্ত

 
 
আমিষ (২০১৯, অসমিয়া)
রচনা ও নির্দেশনাঃ ভাস্কর হাজারিকা
 
 
অবশেষে ছবিটি দেখার সুযোগ হল। সুযোগ করে দিল শুভমদা। শুভম ভট্টাচার্য।  ওর সাথে পরস্পর ধন্যবাদ বিনিময়ের সম্পর্ক আমার না। তবু এমন একটা অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেবার জন্য একশো বার ধন্যবাদ জানাতে চাইব। মন বলছে, মগজও, এমন বিষয় নিয়ে এরকম ভাবে একটা ফিল্ম, অন্তত ভারতের চলচিত্র ইতিহাসে এই প্রথম। 
 
শুরুতেই জানিয়ে রাখি, এটা কোনো ফিল্ম রিভিয়ু না। অল্প কথায় ছবির ‘মূল প্লট’ তুলে ধরার কোনও বাসনাও আমার নেই। আর, কয়েকটা কথায় ‘সিনেমার মূল গপ্পো' বলে দেওয়ার মুন্সিয়ানা আমার নেই। একটা ফিল্ম বুঝতে হলে, এমনকি তার প্লটটিকেও ঠিক ভাবে ধরতে হলে, আগে সেই ছবিটি দেখা দরকার। ‘আমিষ’ এমন এক ফিল্ম, যা মনের ভিতর নানা ভাবে নানা ভাবনার জন্ম দিতে বাধ্য। কোনোটা আলগোছে, কোনোটা প্রচন্ড এক ধাক্কা দিয়ে। আজ, তেমনি এক ভাবনা নিয়ে দু’চার কথা বলার চেষ্টা করব।
 
'আমিষ' ছবিটিতে এক অসম বয়সের, খুবই ব্যতিক্রমী, প্রেমের উপাখ্যান ধরা রয়েছে। [কি আশ্চর্য দেখুন! এই যে 'অসম বয়স' বললাম, তার অর্থ কিন্তু প্রায় সবার কাছেই অবধারিত ভাবে এই দাঁড়ালো যে পুরুষটি বয়সে ছোট, এবং মহিলা বড়। সামাজিক কন্ডিশনিং যাবে কোথায়!] অসম বয়সের প্রেম নিয়ে গল্প-উপন্যাস-ছবি নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমিষ ছবিটির সেই প্রেমের আখ্যানের মধ্যেই যে মধ্যবিত্ত মনন আর মধ্যবিত্ত যাপনে তীব্র আঘাত হানা এক অনুষঙ্গ এসে হাজির হচ্ছে। চলে আসছে নরমাংস ভক্ষণ, অর্থাৎ, ক্যানিবালিজম ব্যাপারটা। হোঁচট খেতে পারেন। বিষম লাগতে পারে। বিবমিষা? হ্যাঁ, সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু না, ঠিকই পড়েছেন। নরমাংসভক্ষণ। ক্যানিবালিজম। একটা প্রেমের গল্পে। 
যদি খুব ভুল না হই, তাহলে এমন বিষয় নিয়ে ছবি এর আগে আমাদের দেশে অন্তত হয় নি। কিন্তু, ঠিক কী ভাবে হিউম্যান ক্যানিবালিজমের মত এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার এক ভালবাসার গল্পে ঢুকে পড়ছে? দেখে নেওয়া যাক।
 
ফিল্মের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নির্মলি (নবাগতা লিমা দাস) পেশায় একজন চিকিৎসক। সেই সূত্রেই তার আলাপ হয় নৃতত্বে গবেষণারত ছাত্র সুমনের (নবাগত অর্ঘ্যদীপ বড়ুয়া) সাথে। সুমনের গবেষণার বিষয় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন খাদ্যরীতি। পাশাপাশি সে আবার তার বন্ধুদের সাথে খুলেছে 'মিট ইটার্স ক্লাব', যেখানে বিভিন্ন ধরনের মাংস নিজেরা রান্না করে খাওয়া হয়। সুমন নির্মলিকে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, প্রভৃতিতে নিয়ে গিয়ে নানা ধরনের মাংস খাওয়ায়। সময়ের সাথে সাথে সুমন তার চেয়ে বয়সে বড়, বিবাহিতা নির্মলির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। নির্মলি সেটা বোঝে, কিন্তু সে এই ব্যাপারটাকে প্রশ্রয় দেয় না। আগের মতই স্বাভাবিক থাকে তাদের মেলামেশা। কিন্তু ভিতরে ভিতরে নির্মলিও এক ভাবে সুমনের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। অবশ্য এই আকর্ষণ কতটা সুমন নামের ব্যক্তিটির প্রতি, আর কতটা সুমনের মাধ্যমে যে এযাবত অচেনা-অদেখা এক জগতের চাবিকাঠি পেয়ে যাওয়ার প্রতি, সেই প্রশ্নও সুকৌশলে দর্শকের ভিতর এনে হাজির করেছেন পরিচালক ভাস্কর হাজারিকা।  আর এই নতুন মধ্যবয়সে এসে পৌঁছনো নির্মলিকে এক নতুন বাঁচার হদিস দিয়েছে। অথবা, প্রাত্যহিককেই নতুন ভাবে দেখার হদিস পেয়েছে সে। ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে, উন্মুক্ত হচ্ছে নির্মলির ভিতরটা। নির্মলির প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে বদল, খাবার টেবিলে বসে মাংসের কোনও পদ না দেখতে পেলে খাওয়ার ইচ্ছে চলে যাওয়া, বরের সাথে খেতে বসেও টেবিল ছেড়ে উঠে গিয়ে ফ্রিজ খুলে মাংস খাওয়া, এসবই যেন সেই নতুনেরই রূপক। বা, 'প্রথাগত' চিরাচরিত অভ্যস্তর চোখে এক অস্বাভাবিক-এর রূপক। 
 
শরীর-মনের জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে একটা সময়ের পর সুমন আরো বেশী করে, আরো অন্যরকম ভাবে নির্মলির সাথে মিলিত হতে চায়। কিন্তু তাদের প্রতিদিনের দেখা হওয়া যেন অদৃশ্য, অলিখিত কিছু নিয়মে বাঁধা। সেখানে একে আঙুল স্পর্শ করাতেও কঠোর মানা রয়েছে। সুমন তাই এক বিকল্প ব্যবস্থা করে। এক ডাক্তার বন্ধুর সাহায্যে নিজে শরীর থেকে মাংস কেটে নিয়ে নিজের হাতে সেই মাংস রান্না করে নির্মলিকে খাওয়ায় সে। না জেনে সেই রান্না করা নরমাংস খেলেও, খাবার সময়ই নির্মলির এক অদ্ভূত অনুভুতি হতে থাকে। নির্মলি জানে না, পরম তৃপ্তি ভরে যে মাংস সে খাচ্ছে, তা একজন মানুষের মাংস। কিন্তু, তার অভিব্যক্তি বুঝিয়ে দেয় যে এই স্বাদ সে আগে কখনো পায় নি। তার চোখ-মুখ জানান দেয় এ যেন এতকালের চেনা ছকের বাইরে এক মুক্তির আস্বাদ। বা, অনেকদিনের তপ্ত শুকনো রুক্ষ মাটিতে বৃষ্টির প্রথম ফোঁটায় সেই অদ্ভুত মন-কেমন সোঁদা গন্ধ! বা, অন্য, আরো অন্য কিছু!


পরে এই মাংসের ইতিবৃত্ত জানতে পেরে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই, নির্মলি ভীষণভাবে চমকে ওঠে। অবিশ্বাস্য লাগে। ব্যাপারটার আকস্মিকতা তার প্রকাশের ভাষাও কেড়ে নেয়। কিন্তু, অদ্ভূত ভাবে, খুব অল্প সময়েই সে নিজেকে সামলে নেয়। শুধু তাই নয়, ছেলেটি নিজের শরীরের মাংস কেন তাকে খাওয়াতে উদ্যোগী হয়েছে, সেটা পড়ে নিতেও তার অসুবিধা হয় না। সামাজিকতার একটা পাঠ তাদের শারীরিক ভাবে মিলিত হওয়া থেকে বিরত রেখে দিয়েছে। সেই পাঠ, সেই গন্ডি, নির্মলি অতিক্রম করতে চায় না। কিন্তু, সামাজিকতার সেই পরতকে মান্যতা দিয়েও আরো সূক্ষ এক উপায়ে সুমন ছেলেটি এভাবে নিজের শরীরকে নির্মলির শরীরের সাথে মিলিত করছে। নির্মলি ঠিক ঠিক সেটা পড়ে নেয়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন তার এই নরমাংসের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। পরিবর্তে নির্মলি একদিন নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে নিয়ে সুমনকে খাওয়াতে গেলে কিন্ত সুমন তা মেনে নিতে পারে না। তার ঘেন্না লাগে, বমি করে ফেলে। নির্মলি আশ্চর্য হয়। যে ছেলেটি নিজে তাকে এই মাংসের দিকে টেনে নিয়ে গেছে, আজ সেই নিজেই তা মেনে নিতে পারছে না! অবাক হয় নির্মলি, কিন্তু মেনে নেয়।
 
 
লক্ষ্য করা যাক, দুই ক্ষেত্রেই মেনে নেওয়াটা নির্মলির দিক থেকেই আসছে। আরো একবার ভেঙ্গে বললে:
    মেনে নেওয়া ১ - সুমন না জানিয়ে তাকে নিজের মাংস (নরমাংস) খাওয়ায়। নির্মলি মেনে নেয়
[এবং ধীরে ধীরে তাতে আসক্ত হয়ে পড়ে]
    মেনে নেওয়া ২ - নির্মলির নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে সুমনকে খাওয়াতে গেলে, সুমন ঘেন্নায় তা খেতে পারে না। বমি করে ফেলে। সুমনের এই 'না' নির্মলি মেনে নেয়

বর্তমানে আমি নির্মলির এই দুই 'মেনে নেওয়া'কে লিঙ্গ তথা জেন্ডারের প্রেক্ষিত থেকে দেখে অল্প কিছু কথা বলতে চাইব। আসলে, নৃতত্বের এক গবেষক, কালচারাল রিলেটিভিজম বা সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতায় বিশ্বাসী উদারমনস্ক এক যুবক, যে অন্য একজনকে ক্যানিবালিজমে আসক্ত করে তুলছে, সে নিজে কিন্তু নরমাংস মুখে দিয়েছে জেনেই ঘেন্নায় বমি করে ফেলছে। অথচ, আমাদের মধ্যবিত্ত সামাজিক বোধে 'সুস্থ', 'স্বাভাবিক' এক মহিলা ব্যাপারটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছেন, সক্রিয় হয়ে উঠছেন। কেন জানিনা, এখানে, খানিক তেরছা ভাবে হলেও, জেন্ডার-সংক্রান্ত এক চেনা ছক যেন এসে হানা দিচ্ছে। 
 
ক্যানিবালিজম কথাটির অর্থ নিজেরই প্রজাতির মাংস ভক্ষণ। অর্থাৎ, একটা বোয়াল মাছও যদি অন্য এক বোয়াল মাছকে খেয়ে ফেলে, সেটাও ক্যানিবালিজম। তাই, একজন মানুষ অন্য কোনও মানুষের মাংস খেলে সেটাকে হিউম্যান ক্যানিবালিজম বলাটাই শ্রেয়। এই হিউম্যান ক্যানিবালিজম বা নরমাংস-ভক্ষণ নিয়ে কয়েকশো বছর ধরে নানা কিছু লেখা হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপিয় ভদ্দরলোকেরা যে আমলে 'নিউ ওয়ার্ল্ড' আবিষ্কার করছে, সে'সময়ের নানা লেখায় ক্যানিবালিজমের প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে এসেছে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে এই বিষয়ে বিস্তর লেখাপত্র হচ্ছে। আমরা জানতে পারছি, কোথাও কোথাও বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠির মধ্যে নিজেদের মৃত সদস্যের মাংস ভক্ষণের রীতি আছে। কোথাও আবার শত্রুর মাংস খাওয়ার রীতি। নিজেরই শরীরের অংশবিশেষ কেটে রান্না করে খাওয়ার উদাহরনও আছে। আবার, ধর্মীয় উপাচারে এক রূপক বা আধ্যাত্মিক, তথা সিম্বলিক ক্যানিবালিজমের প্রচলনও আছে। এর পাশাপাশি আবার বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের মধ্যেও ক্যানিবালিজম বহুল প্রচলিত। এই শেষ ধারাটিকে মূলত যৌন বা সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম বলা হয়ে থাকে। কেননা অনেক প্রজাতির পোকা-মাকড়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যৌন সঙ্গমের সময় নারীটি তার পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। 


লক্ষ্য করার বিষয়, সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজমের ক্ষেত্রে নারী সঙ্গী তার পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। উল্টো উদাহরণ যে নেই, তা না। কিন্তু সংখ্যায় তা নেহাতই নগণ্য। যৌনসঙ্গমের সময় আমাদের বোধে আশ্চর্য ঠেকা এমন একটা ব্যাপার কেন ঘটে, তা নিয়ে অবশ্যই বিস্তর গবেষণা হয়েছে। তার অনেকটাই স্পেকুলেটিভ, অর্থাৎ অনুমান ভিত্তিক। তবে, একটা বিষয় নিশ্চিত। যে সব প্রজাতির পোকা-মাকড়ের মধ্যে সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম ঘটে, সেখানে অধিকাংশ পুরুষ পোকাটিই মোনোগ্যামাস বা একগামী। উপরন্তু তাদের অধিকাংশের শরীর দ্বিতীয়বার শুক্রানু তৈরী করতে অক্ষম। তাই তারা চায় যেন তাদের সমস্ত শুক্রানু সম্পূর্ণ রূপে নারী শরীরে প্রবেশ করে।
 
তাহলে, কোনো ভাবে কি সুমন নামের ছেলেটির এই আচরণ - নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে তার ভালবাসার নারীটিকে খাওয়ানো - এই সম্পর্কের প্রতি চরমতম নিষ্ঠা বা সততার প্রমাণ বহন করছে? এক আশ্চর্য রূপকের আশ্রয়ে নিজের ভালোবাসাকে সে করে তুলতে চাইছে শরীর-মনে একগামীতার পরাকাষ্ঠা? ব্যাপারটাকে এ'ভাবে দেখা যেতেই পারে। কিন্তু, তাই যদি হয়, তাহলে তার নিজের বিবমিষার কী কারণ? কেন মাংস মুখে দিয়ে সেটা নির্মলির শরীর থেকে কেটে নেওয়া মাংসের টুকরো জেনে সে ঘেন্নায় শিউড়ে উঠছে, বমি করে ফেলছে? নিষ্ঠা, সততা, একগামীতাই যদি তার ভাবনায় থেকে থাকে, তাহলে তো তার বরং খুশী হবার কথা, যে নির্মলিও একই ভাবে তার প্রতি নিজের নিষ্ঠার পরিচয় দিচ্ছে! এখানেই চলে আসছে ওই জেন্ডারের এক চেনা ছকের গল্প। 

পোকা-মাকড়ের জগতে সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজমের ক্ষেত্রে আমরা দেখলাম যে কী ভাবে পুরুষ সঙ্গী তার সমস্ত শুক্রানু নারী দেহে ঢেলে দেবার এই অদ্ভূত উপায় তৈরী করছে। আমিষ ছবিটির প্রেক্ষিতে এই বিষয়টিকে রূপক হিসেবে দেখে আমরা বলতে পারি যে সুমনের নিজের মাংস নির্মলিকে খাওয়ানোর অর্থ আসলে নিজের শরীরকে নির্মলির শরীরে প্রবেশ করানোর এক উপায়। পুরুষ শরীর নারী দেহে অনুপ্রবেশ করবে, এটাই তো হয়, এটাই তো হয়ে আসছে, এটাকেই তো স্বাভাবিক হিসেবে আমরা মান্যতা দিই। পুরুষের এই নারীদেহে অনুপ্রেবেশের আকাঙ্খা চিরকালীন। যতক্ষণ সেই অনুপ্রবেশ না ঘটছে, নারীটি আমার হয়েও সম্পূর্ণ যেন আমার হয়ে উঠল না। আর তাই যদি না হয়, তাহলে আমি (পুরুষ) আমার নারীর সম্পূর্ণ স্বত্বাধিকারী হব কী ভাবে! পুরুষ দেহটির যদি নারীদেহে অনুপ্রবেশ না ঘটে, তাহলে যে আমার নির্মিত পৌরুষের ধারনাই তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে। এভাবেই যে পুরুষ মনন গড়ে উঠেছে। পুরুষ, অর্থাৎ স্বামী, অর্থাৎ মালিক, অর্থাৎ স্বত্বাধিকারী। তাই নিজের মাংস, অর্থাৎ নিজের শরীরের অংশ নির্মলিদের খাওয়াতে পেরে সুমনরা খুশী। নির্মলিরাও সেটাকে ভালবাসার তীব্রতম প্রকাশ হিসেবেই খুশী মনে গ্রহণ করে নিতে পারে। কিন্তু উল্টোটা! উঁহু, সেটা কিভাবে হবে? আমি পুরুষোচিত পুরুষ, আমি স্বামী, আমি আমার নারীর দেহে প্রবেশ করব। আর এভাবেই নারী নামক ভূখন্ডে আমার জয়ধ্বজা উড়বে। আমার দেহে কেন কেউ প্রবেশ করবে? নিজের পৌরুষের কাছে তাহলে কী ভাবে জবাবদিহি করব? তাই সুমনদের বমি হয়ে যায়, নিজের ভিতর থেকে উগড়ে ফেলে দেয় তাদের নারীর দেহাংশ। নির্মলিরাও বুঝে নেয়, আসলে সেটাই 'স্বাভাবিক'।

No comments:

Post a Comment

'আমিষ': ভালবাসার বিনির্মাণ

"আমিষ" ভালবাসার বিনির্মাণ   শুভ্রদীপ দাশগুপ্ত       আমিষ (২০১৯, অসমিয়া) রচনা ও নির্দেশনাঃ ভাস্কর হাজারিকা     অবশেষে ছবিটি দেখ...