Tuesday, May 22, 2012

ওই পুরনো খাতা থেকে ৩


এই তো কেমন অন্ধকারেই হাতড়ে নিচ্ছি
ফোঁকরগুলো হাতড়ে দেখছি এই তো কেমন
আলতো করে জিভ বোলাচ্ছি আস্তে আস্তে
পর্দা পাচ্ছি ঠান্ডা গরম পর্দা ছিঁড়ছি
ঢুকছি কেমন অন্ধকারেই আস্তে আস্তে
ঢুকছি আর সেঁধিয়ে যাচ্ছি তলিয়ে যাচ্ছি
দেখছি এখন
          জনন তন্ত্র
                 পুরুষ তন্ত্র
সব একাক্কার ছুরির মতন বিঁধছে আমার
পেটের তলায় রাস্তাগুলো শিরায় শিরায়
দপদপিয়ে ফুলছে ফাঁপছে উপচে পড়ছে
উগড়ে দিচ্ছে নতুন জনম অন্ধকারেই
নতুন জীবন খুঁজছে আলো খাচ্ছে আলো
অন্ধকারেই কে জানে সে কেমন করে
পাচ্ছে আলো খাচ্ছে আলো অন্ধকারেই কালো কালো
মুন্ডুগুলো নাচছে কেমন ঝল্‌সে যাচ্ছে বর্শা ফলায়
গৈরিকতায়
          স্বস্তিকারা
             উড়ছে হাওয়ায়
                   উড়ছে
                       হাওয়ায়



[২৩ জানুয়ারি, ২০০৯]

Monday, May 21, 2012

ওই পুরনো খাতা থেকে ২


মেকি


বলেছো এ’ভাবে আর তো চালিয়ে যাওয়া যায় না... বলেছো এই রাজনীতি
বলেছো অসহ্য আদর্শবাদ জেদী, একগুঁয়ে, স্বেচ্ছাচারী... সাত বছর সাড়ে তিন
মাস... বলেছো বাবা মণি কাকা বলেছো ঠাম্মা বলেছো রাঙা পিসি বলেছো চাপ
অসহ্য চাপ পাশের ফ্ল্যাটের মিহির কাকুর বৌ... তোমারও তো সাতাশ হলো...
বলেছো বাষ্প জমাট চোখে লাল চোখ ঢাকা রুমাল জুড়ে সেদিন কত? অগষ্ট ষোলো?

অথচ আমি তো কখনো কিছুই চালিয়ে যেতে বলি নি সোনা শুধু যদি আপনা থেকেই...
ফ্লাইওভার আর লেকের মাঠে অজস্রবার তোমার ছাদের একলা ঘরে অজস্রবার আমার
মেসে সেই সেই বার মনে আছে কই কখনো তেমন কোনও বাঁধা তোমায় দিই নি সোনা
শুধু যদি আপনা থেকেই গড়িয়ে... কি হয়েছে শপিং মল আর ফোরাম জুড়ে জীবন কিত্‌না
রঙ্গিন গুরু এই তো সবে খোলস ভাঙ্গা তুমি তেমন বুঝলে কোই বাত্‌ নেহি ওই তো সবে ডায়েরিখানার কয়েকটা ঘর কি ছাইপাস্‌ অসহ্য সব আছেই আগুন আছেই তো জল
কমোড ফ্ল্যাশ কিম্বা তোমার বসার ঘরেই আগুন আহা আগুন ওহো আগুন কি উত্তাপ
শরীরখানাও বেশ তো গরম দেখো তখন মন্ত্র কোনও মন্ত্র হবে দেখো আর দেখতে দেখতে
ট্রেণ্ডি পুজো জুরিখ-প্যারিস-রোম-মিউনিখ ভুলতে এ’সব লাগে না তো আধা বছর

ভালো থেকো পারলে থুরি চাইলে তবে মনে রেখো এটাই তবে শেষ মোলাকাত
হলোই না হয় খাতার পাতায় শেষ করতে আবার বলি ভালো ভালো ভালো থেকো


ভুলে গেছিলাম, আরেকটা কথা,
কাল বিকেলে আসছো তো?




[৩০ এপ্রিল, ২০০৬]

ওই পুরনো খাতা থেকে


বাঁচতে আমায়


বিন্ধ্যাচলের অশ্রু নিয়ে বোনা
হৃদয় তোমার...
এখানে আমার কান্না

সাতটি যুবক – তরতাজা সাত প্রাণ
ঘুমায় দ্যাখো,
রক্ত চুমায় লাল,     ওরা
পিতার ছোঁয়ায় লাল।
মহুলবিথীর বুক থেকে তুলে নিই
বক্ষে আমার
সাতটি গরম লাশ,     ওই
সাতটি নিখোঁজ লাশ

(তাই, অশীতিপর বুদ্ধির কোন্‌ ঘায়ে
ম্লেচ্ছ আমি,
শুনছ, জগন্নাথ?)

বাঁচার তাগিদে সাতটি তাজা প্রাণ
ঘুমায় এখন
রক্ত চুমায় লাল
বাঁচতে আমায় লজ্জা দিয়ে যায়
বক্ষে ধরা তরতাজা সাত লাশ্‌


[২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৪]

Sunday, May 20, 2012

'হারিয়ে যাওয়া গীতবিতান' থেকে পাওয়া...

...যদ্দূর মনে পড়ছে আলো-আঁধারি এক ঘর। বড় আলো, মেজো আলো, ছোট আলো –সমস্তই নেভানো। পূব-দক্ষিণে একফালি বারান্দা আর জানালা হয়ে, নিয়ন আলো নয়, দ্বাদশীর চাঁদ নেপথ্য স্নিগ্ধতার কাজ করে চলেছে। আর, ও’ঘরের সাদা আলোর খানিকটা ছটা আসছে আবছা আলো-আঁধারে মোহময় এই ঘরে

...যদ্দূর মনে পড়ছে, চলে যাবার আগে স্নান সেরে এসে বুকের উপর থেকে গামছা সরিয়ে নিতেই সব্‌জে আলো ছড়িয়ে পড়ল শ্যামল বৃন্ত থেকে মেঝেতে, গেলাসে, আমার চোখের পাতায়নিঃশ্বাস নিতেই টের পেলাম, আতপ্ত মাটির বুকে বৃষ্টি এসেছে অঝোরে..

...সবুজ সে, হাঁটছে, চলছে, ফিরছে। ফোঁটা ফোঁটা জল পান্না হয়ে ঝরছে মেঝেতে, শরীরে আর মনে। আশ্লেষ। চোখ বুজলাম, চোখ খুললাম। মনপুরা গেল থেমে। বহুকালের চেনা সন্ধ্যাবেলার মিষ্টি মত সেই গন্ধ ম্লান হয়ে আসলো ধীরে ধীরে..

দাবী ছিল পুরো গান শোনাতে হবে। থেমে গেলে চলবে না মাঝপথে। সেদিনের অভ্যাস বশত ডান হাত বাড়িয়ে গীতবিতান টেনে নিতে নিতে চোখ তুলে দেখলাম, সবুজ সে নেই। হাতে ঠেকল নবধারা জলের জীবাশ্ম। শক্ত, ঠান্ডা, ধাতব। শীতলতা শীতলতা শীতলতা!

সবুজ সে কখন্‌ চলে গেছে অজান্তেই..


কিচ্ছু, কিচ্ছুটি টের পাই নি..


তারই সঙ্গে উধাও হলুদ লেগে থাকা চেনা গীতবিতানখানিও..

 .....................................................................................................................


কেন আবার এই লেখা তুলে দিলাম এই ব্লগে, তা হয়ত একটা কৈফিয়ত বা ওই গোছের কিছু দাবী করে। ধৈর্য ধরে পড়ে ফেললে পাঠিকা/পাঠক অবশ্যই বুঝবে যে সামান্য বদল রয়েছে, একটু এদিক-ওদিক করা রয়েছে। তবে, মোটের উপর একই লেখা, ওই আগের পোষ্টেরই পুনরাবৃত্তি প্রায়। তবু তুলে দিলাম। হয়ত কারো ইচ্ছেতে, অথবা সেই কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েই। এটুকু জানানো কর্তব্য : এই অদল-বদল আমি-কৃত নয়।

Sunday, May 13, 2012

হারিয়ে যাওয়া গীতবিতান


যদ্দূর মনে পড়ছে আবছা আলো এক ঘর। বড় আলো, মেজো আলো, ছোট আলো – সমস্তই নেভানো। দক্ষিন-পূবে একফালি বারান্দা আর জানালা হয়ে, নিয়ন আলো না, দ্বাদশীর চাঁদ নেপথ্য স্নিগ্ধতার কাজ করে চলেছে। আর, ও’ঘরের সাদা আলোর খানিক ছিটে আসছে আবছা আলো ঘরে। যদ্দূর মনে পড়ছে, চলে যাবার আগে স্নান সেরে এসে বুকের উপর থেকে গামছা সরিয়ে নিতেই সব্‌জে আলো ছড়িয়ে পড়ল শ্যামল বৃন্ত থেকে মেঝেতে, গেলাসে, আমার চোখের গায়ে। শ্বাস নিতেই টের পেলাম, আতপ্ত মাটির বুকে বৃষ্টি এসেছে অঝোরে। সবুজ সে, হাঁটছে ফিরছে। ফোঁটা ফোঁটা জল পান্না হয়ে ছিটকে পড়ছে আবছা মেঝেতে। আশ্লেষ। চোখ বুজলাম, চোখ খুললাম। মনপুরা গেল থেমে। বহুকালের চেনা সন্ধ্যাবেলার মিষ্টি মত সেই গন্ধ ম্লান হয়ে আসলো ধীরে ধীরে। দাবী ছিল পুরো গান শোনাতে হবে। থেমে গেলে চলবে না মাঝপথে। সেদিনের অভ্যাস বশত ডান হাত বাড়িয়ে গীতবিতান টেনে নিতে নিতে চোখ তুলে দেখলাম, সবুজ সে নেই। হাতে ঠেকল নবধারা জলের জীবাশ্ম। শক্ত, ঠান্ডা, ধাতব। শীতলতা শীতলতা শীতলতা!
সবুজ সে কখন্‌ চলে গেছে।
কিচ্ছুটি টের পাই নি।
সাথে উধাও হলুদ লেগে থাকা চেনা গীতবিতান।

Wednesday, May 2, 2012

বদলে অদৃষ্ট


যেভাবে এসেছ তুমি
দাঁড়িয়েছ যেখানে এসে, ভালোবেসে
তাকানো যায় না আর, বিশ্বাস করো
ভালোবাসা যায় না

জানি আজও আছে সেই সব নতুন ধানের গন্ধ
বুক ফুটে ওঠা একটু একটু
.....................
ফ্রকের কিশোরী আর প্রজাপতি আর ঘাসফড়িঙ
টিলা থেকে নেমে আসে সব
নেমে আসে পর্দা হয়ে
বুকের উপর সেজে যায় সামাজিক বয়সের ওড়নায়
.....................
তবু আজ, সত্যি বলছি,
সব জেনে শুনেও
তাকানো যায় না......

'আমিষ': ভালবাসার বিনির্মাণ

"আমিষ" ভালবাসার বিনির্মাণ   শুভ্রদীপ দাশগুপ্ত       আমিষ (২০১৯, অসমিয়া) রচনা ও নির্দেশনাঃ ভাস্কর হাজারিকা     অবশেষে ছবিটি দেখ...