এখন খুব ঘুম পায় আমার বড্ড খিদে এখন আমার প্রেমিকার ঘাড় চিবুক কবজি গোড়ালি আস্ত গিলে তার নরম উরুতে মাথা রেখে যোনিদেশের ভেজা আশ্রয়ে ঘুমোতে যাই আমার চোখের পাতা লেগে আসতে দেখি রাত্রি দুটো ছাব্বিশে কম্প্যুটারের পর্দায় নগ্নিকার সামনে নতজানু উলঙ্গ পুরুষের সদ্য উত্থিত লিঙ্গ মুহূর্তে শিথিল জান্তব চেষ্টাতেও সেই চরম একাকীত্বের মুহূর্তে চোখের সামনে থেকে আমার প্রেমিকার আমার প্রেমিকার বরের সাথে ওই ওই বিছানায় নগ্ন জাপ্টাজাপ্টি যেতে চায় না আমার শিথিল লিঙ্গ বার বার আঘাতে ব্যথাতুর হয় আমি ছুটে যাই মায়ের কাছে নে নে আমায় গর্ভে নে ধারণ কর অনঙ্গ আমার ধর্ম হয়ে ওঠ জিভে নোনতা স্বাদ ঠেকে রেল লাইনে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছাই ছাই কুকুর দ্বিখন্ডিত গলা নলিদেশ থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নোনতা উত্তাপ জিভ থেকে গলা থেকে অন্ডকোষে প্রেমিকার ভেজা যোনিদেশ ফেঁপে ওঠা বুকে জমতে থাকে ক্ষীর ক্ষীর আমার শেষবারের চলে যাবার অভিমান
....................
লেখাটি বিষয়ে আমার তন্নিষ্ঠ পাঠক ও একনিষ্ঠ সমালোচক শ্রী ত্রিবিধ শান্তিরাম-এর মন্তব্য থেকে কিছু অংশ :
এ’কথা সত্য যে লেখাটি পড়ে আমিই তোমায় উপদেশ দিয়েছিলাম এটি পাব্লিশ করতে, নিদেন তোমার ব্লগে তুলে দিতে, কিন্তু এক্ষণে কম্প্যুটারের পর্দায় লেখাটি দেখে আমার কিঞ্চিত অস্বস্তি বা ওই জাতীয় কিছু একটা হইতেছে। জানি না এর কারণ কী। শুভ্র, তুমি জানো যে সাহিত্য-শিল্পে ব্যক্তিক আর সামাজিকের তফাৎ আমি স্বীকার করি ঠিকই, কিন্তু এই বিষয়ে অন্তত আমার কোনো ছুৎমার্গ নাই যে অমুকটা বড্ড ব্যক্তিগত, বাড়াবাড়ি, ছাপা উচিত নয়, প্রকাশ করা অনুচিত; ইত্যাদি, ইত্যাদি। আর হয়ত সেই কারণেই আমার দ্বিতীয় পঙক্তিতে ওই “অস্বস্তি” শব্দের ব্যবহার নিয়েও আমি অস্বস্তিতে। তবুও, বলিতে বাধ্য হইতেছি, এই লেখাখানি এইভাবে প্রকাশ্যে আসিবার পর আমার মনে হইতেছে, বোধহয় না হইলেই ভালো হইত। আবার করিয়া তুমি সেই সমস্ত বড্ড অন্ধকার, বড্ড বিশ্রী ধারার অন্ধকারের ভিতরে ঢুকিয়া পড়িতেছ। দম বন্ধ। তবু...
শুভ্র! তুমি হয়ত অবহিত আছো যে ‘অটোমেটিক রাইটিং’ নামক একটি শব্দের কিছু কাল হইল প্রচলন হইয়াছে। আমি বরাবরই এই ধারণায় বিশ্বাসী যে রাইটিং কখনো অটোমেটিক হইতেই পারে না। প্রতিটি শব্দ লিখিবার প্রাকমুহূর্তে অন্তত ভিতরে একটি তৈরী করে নেওয়া, গুছিয়ে সাজিয়ে নেওয়া, কাজ করিয়া যায়। একটি সচেতন ক্রিয়া চলিতে থাকে ভিতরে ভিতরে। তারপর তাহা লিখিত হয়, লিপিবদ্ধ হয়। এই কথা শুনিয়া ব্যাথিত হইও না যে আমি তোমায় সেই দিন সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারি নি, যখন কিছু দ্বিধা নিয়ে তুমি এই লেখাটি আমার কাছে পাঠ করিবার আগে এক নাতিদীর্ঘ ভূমিকায় বলিয়াছিলে, “দাদা! আজ বুঝলাম অটোমেটিক রাইটিং কাকে বলে। এক্কেবারে যা আসছে তাই লিখে ফেলছি, কী কেন একদম ভাবছিই না...যেন ভিতর থেকে চাড়া দিয়ে উঠছে একেকটা শব্দ, শব্দবন্ধ... দাদা! কি বলি আপনাকে। একেক সময় মনে হচ্ছে যেন আমি লিখছিই না, অন্য কেঊ, অন্য কিছু একটা লিখছে বা লিখিয়ে নিচ্ছে...”। শরীরে স্ট্র্যাটেজিক পজিশনগুলিতে শ্বেত দশা বহুকাল ঘটে গেলেও এখনো নিজ স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চিত ভরসার জোরেই বলি, সম্ভবত এই কথাগুলিই, আর তার সাথে আরো কিছু কথা, সেই দিন তুমি উচ্চারণ করিয়াছিলে। প্রত্যেকটি বাক্য আমি চিরকালের ন্যায় সম্পূর্ণ মনযোগ সহই শ্রবণ করিয়াছিলাম। আবার বলি, ব্যাথিত হইও না, সব শুনে মনে মনে কিঞ্চিত হাসিয়াছিলাম আমি। অবিশ্বাস করিয়াছিলাম তোমায়। ভাবিয়াছিলাম, যন্ত্রণাক্লিষ্ট যুবক, না পারে ফেলিতে, না উগরাইয়া দিতে পারে। কিছু লিখিয়াছে অথচ আমাকে পাঠ করাইবে না, আমার মতামত শ্রবণ করিবে না, এ অসম্ভব। অথচ এই বার যুবক এমন একটি রচনা তৈয়ার করিয়াছে, যাহার ফলে বুঝি তাহার এমন কোনো স্থান অবলোকিত হইবে যাহা তাহাকে যারপরনাই সমস্যা বা অস্বস্তিতে ফেলিয়া দিবে। আর তাই এমন উপন্যাস করিতেছে; উপন্যাস সম “অটোমেটিক রাইটিং”এর দোহাই পাড়িতেছে। শুভ্র! সেই মুহূর্তে তোমার প্রতি স্নেহই আসিয়াছিল, কিন্তু সাথে অবিশ্বাস করিয়াছিলাম তোমায়। পাছে আমি তোমার সেই সমস্ত কিছু ধরিয়া ফেলি, ভাবিয়াছিলাম, সেই কারণেই এই ভাণ। কিন্তু, আমি এক্ষণে ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ, জানি না কেন, সেই দিন তোমার সুললিত কণ্ঠে শ্রবণের আজ আবার এই ছাপার অক্ষরে সেটি নিজে পাঠ করিবার পরে আমি আর তোমায় অবিশ্বাস করিতে পারিতেছি না। জানি, আমার বক্তব্য ঠিক যুক্তিসঙ্গত হইল না। কেহ প্রশ্ন তুলিতেই পারেন যে আমার এ হেন উক্তির কারণ কী। কিন্তু আমি তাহার সদুত্তর জোগাইতে অপারগ। হয়ত বা, তোমাকে দীর্ঘকাল ধরিয়া চিনি-জানি বলেই এমনতর বোধ হইতেছে। বা অন্য কোনো বিষয়ও থাকিতে পারে, তোমাদের সময়ের ফ্রয়েড পন্থিরা যাহাকে আনকন্শাস বা অবচেতন নামে অবিহিত করিয়া থাকো। এবং যেইখান থেকে নাকি এই গোছের রাইটিং সময়ে সময়ে গড়িয়া ওঠে ...
No comments:
Post a Comment